A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / আজব খবর / ছিলেন মানুষ কিন্তু ধীরে ধীরে পরিণত হলেন কুকুরে! কীভাবে ঘটল এমন আশ্চর্য রূপান্তর?

ছিলেন মানুষ কিন্তু ধীরে ধীরে পরিণত হলেন কুকুরে! কীভাবে ঘটল এমন আশ্চর্য রূপান্তর?

Loading...

মানুষের অভিধানে ‘অসম্ভব’ বলে বোধহয় সত্যিই কোনও শব্দ নেই। যা আপাতদৃষ্টিতে অবাস্তব, অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়, মানুষ নিজের মানসিক দৃঢ়তার জোরে তাকেও বাস্তব করে তোলার ক্ষমতা রাখে। এমনই এক আশ্চর্য কাণ্ড ঘটিয়েছেন ব্রাজিলের এক যুবক। নিজের চেহারাকে অবিকল একটি কুকুরের আদলে গড়ে তুলেছেন তিনি।

 

 

 

 

 

 

যুবকের নাম রডরিগো ব্রাগা। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে তাঁর নিবাস। ৩২ বছর বয়সি রডরিগো বর্তমানে সারা পৃথিবীতে পরিচিত ‘কুকুর-মানব’ নামে। কারণ তাঁর চেহারাটাই যে কুকুরের মতো। অথচ কয়েক বছর আগেও আর পাঁচটা মানুষের মতো স্বাভাবিক চেহারা সম্পন্ন ছিলেন তিনি। সুদর্শন হিসেবে সুনামও ছিল তাঁর। কিন্তু সব কিছুই বদলে যায় রডরিগোর প্রিয় পোষা কুকুরটির মৃত্যুর পরে।
.
নিজের পোষ্যকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসতেন রডরিগো। সেই কুকুরটির আকস্মিক মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। তিনি ভাবছিলেন কীভাবে নিজের পোষ্যের স্মৃতিকে জীবিত করে রাখবেন। ভাবতে ভাবতেই এক দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। স্থির করেন, নিজের চেহারাটিকেই গড়ে নেবেন নিজের মৃত চারপেয়ে সঙ্গীটির আদলে।

নিজের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে ব্রাজিলের সেরা প্লাস্টিক সার্জেনদের দ্বারস্থ হন রডরিগো। ডাক্তাররা জানান, রডরিগো যা চাইছেন, তা করা সম্ভব, কিন্তু তার ঝুঁকি রয়েছে যথেষ্ট। নিজের পোষ্যের প্রতি ভালবাসার জোরে মন শক্ত করে রাজি হয়ে যান রডরিগো।
তারপর শুরু হয় অপারেশন টেবিলে রডরিগোকে শুইয়ে ডাক্তারদের আশ্চর্য প্রচেষ্টা। নিজের পরিকল্পনার কথা ভেবে মৃত কুকুরটির দেহটিকে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন রডরিগো। সেই কুকুরেরই মুখের বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা ভাবে তুলে নিয়ে অপারেশন করে ডাক্তাররা বসাতে শুরু করেন রডরিগোর মুখে। রডরিগোর নাক, চোখ, ভুরু, চোয়াল— সবকিছুই একটু একটু করে সেই মৃত চতুষ্পদের আদলে হয়ে উঠতে থাকে।

 

 

 

 

 

 

 

পর পর বেশ কয়েকটি অপারেশনের পরে রডরিগোর চেহারা হয়ে ওঠে অবিকল সেই কুকুরটির মতো। অপারেশনের পরে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা ভোগ করতে হয় রডরিগোকে। কিন্তু সবকিছু হাসিমুখে সহ্য করেন রডরিগো। নিজের শরীরের মধ্যে দিয়ে তিনি বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁর পোষ্যকে— সেটাই রডরিগোর শান্তি। আজ সারা পৃথিবীতে তিনি পরিচিত ‘কুকুর-মানব’ হিসেবে।

গত কয়েক বছর ধরে এই বিচিত্র খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে ইন্টারনেটের দুনিয়ায়। কিন্তু এই খবরের কতটা সত্যি? সত্যিই কি একজন মানুষ বেঁচে থাকতে পারেন কুকুরের চেহারা নিয়ে? খবরটিকে সত্যি বলে প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দেওয়া হতে থাকে এক বিচিত্র অপারেশনের ছবি ও ভিডিও। তাতে দেখানো হয়, কীভাবে এক যুবকের মুখে বসানো হচ্ছে কুকুরের মুখের বিভিন্ন অংশ।

ছবি ও ভিডিও দেখে আপাতদৃষ্টিতে সবটাকেই সত্যি বলে মনে হতে বাধ্য। কিন্তু একটু খোঁজখবর নিলে জানা যায়, খবরটির মধ্যে আংশিক সত্যতা থাকলেও, বহুলাংশে তা ভুয়ো। ছবির যুবকের নাম সত্যিই রডরিগো ব্রাগা। সত্যিই তিনি একসময়ে কুকুরের চেহারা ধারণ করেছিলেন। কিন্তু সবটাই ছিল সাময়িক। আসলে ২০০৪ সালে ব্রাজিলে একটি আর্ট ওয়ার্কশপ আয়োজিত হয়, যার নাম ছিল ফ্যান্টাসিয়া দে কমপেনসাকো। বিভিন্ন শিল্পী তাঁদের মনের বিচিত্র কল্পনাকে রূপদান করেছিলেন এই ওয়ার্কশপে। সেই ওয়ার্কশপেই অংশগ্রহণ করেছিলেন রডরিগো। সেখানেই একটি কুকুরের আদলে নিজেকে সাজিয়ে তোলেন তিনি। তাঁর সেই রূপান্তরেরই ভিডিও ও ছবি কিছুটা এডিটিং-এর কারসাজির মাধ্যমে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলে পরবর্তীকালে রডরিগোর প্লাস্টিক সার্জারির ছবি হিসেবে ভাইরাল হয় ওয়েব দুনিয়ায়।
রডরিগোর এই কুকুর-রূপ ছিল নিতান্তই সাময়িক। ওই বিচিত্র সাজের কয়েক ঘন্টা পরেই তিনি ফিরে আসেন তাঁর পুরনো অবয়বে। বর্তমানে একেবারে স্বাভাবিক চেহারায় সুস্থ দেহে সাও পাওলোয় বসবাস করছেন ‘কুকুর-মানব’ নামে খ্যাতি পাওয়া রডরিগো ব্রাগা।

-এবেলা

Check Also

যে শহরের দেয়াল ধরে কাঁদতে আসেন মানুষ!

Loading... বিশ্বে তিন ধর্মালম্বী মানুষের কাছে পবিত্র ভূমি জেরুজালেম। এই শহরে এমন একটি বিশেষ দেয়াল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *